কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আবু কাউছার (৪৫) নামে এক যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ছত্রখিল এলাকায় গোমতী নদীর উত্তর পাড়ে কাউছারের ওপর হামলা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি নগরের কাপ্তান বাজার এলাকার বাসিন্দা। হামলায় মাসুম নামে এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকও আহত হন।
নিহতের বন্ধু শামীম হোসেন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, নন্দিরবাজার এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম ওরফে তৌহিদের নেতৃত্বে কয়েকজন এ হামলা চালান।
শামীমের ভাষ্য, ছত্রখিল এলাকার একটি জমি নিয়ে তৌহিদুল ও তানজিলের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছিল। জমিটি তিনি কিনলেও দখল নিতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। শুক্রবার কাউছারসহ কয়েকজনকে নিয়ে জমি দেখতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা হয়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাউছারকে কোপানো হয়।
কুমিল্লা মহানগর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বিপ্লব জানান, কাউছার আগে দক্ষিণ জেলা যুবদলের সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তাঁর কোনো পদ না থাকলেও নগরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে যুবদল কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বড় ভাই কবির হোসেন দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসভাপতি।
খলিলুর রহমান অভিযুক্ত তৌহিদুলের আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনের বিরোধিতার অভিযোগও করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তৌহিদুল বা তাঁর পরিবারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে কাউছারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিকেলে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে শতাধিক ব্যক্তি নন্দিরবাজারে জড়ো হন বলে জানান স্থানীয়রা। একপর্যায়ে তাঁরা তৌহিদুলের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বাড়ির কয়েকটি কক্ষে আগুন দেওয়া হয় এবং আসবাবসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। বাড়ির সামনের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার জানান, বিক্ষুব্ধ লোকজন বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করেন। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ওসি বলেন, ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্যে তৌহিদুলসহ কয়েকজনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।









