
প্রতিবছর দেশের শ্রমবাজারে প্রবেশকারী লক্ষ লক্ষ তরুণের বেশির ভাগ অদক্ষ অথবা কম দক্ষ হওয়ার কারণে তারা লক্ষীত মজুরি বা শোভন কর্ম পরিবেশ হতে বঞ্চিত হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে তরুণদের low level technology trap ও স্বল্প মজুরির চক্র হতে বের করে নিয়ে আসা এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের জন্য RAISE প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় নবলোক পরিষদ ৫টি জেলায় (খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ) সর্বমোট ১,২৬৯ জন তরুণ ও ছোট উদ্যোক্তার সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন করেছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে স্বল্প আয়ের পরিবারভুক্ত তরুণ-তরুণীদের শিক্ষানবিশি (Apprenticeship) কার্যক্রমের আওতায় ৯৮৫ জন শিক্ষানবিশকে ২৩২ জন ওস্তাদের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞানসমৃদ্ধ কারিগরি দক্ষতা প্রদানের পাশাপাশি জীবন দক্ষতা উন্নয়ন (Life-skills Development) প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে টেকসই কর্মে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া ১৭৭ জন শিক্ষানবিশিকে NSDA-এর আওতায় RPL পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করানো হয়। এ ছাড়াও পিছিয়ে পড়া তরুণ উদ্যোক্তাদের ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা, উদ্যোগ উন্নয়ন ও জীবন দক্ষতা উন্নয়নে সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থায়ন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, কোভিড-১৯-এ ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫০ জন ছোট উদ্যোক্তাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থায়ন ছাড়াও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় ধারাবাহিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। উল্লেখ্য, RAISE প্রকল্পের আওতায় সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী যেমন দলিত, তৃতীয় লিঙ্গ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অর্থায়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের হাজারো তরুণ-তরুণী দক্ষতা অর্জন করে আত্মনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। এর ফলে একদিকে যেমন তাদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের অর্থনীতিতেও তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এই প্রকল্পের ধারাবাহিক সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী দিনে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।









