মানবদেহে মিলছে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা

খাবার, পানি ও বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে মাইক্রোপ্লাস্টিক: স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

ফৌজিয়া রুবি

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬

পানীয় জল, দৈনন্দিন খাবার, পোশাক এমনকি আমরা যে বাতাসে শ্বাস নিই—সবখানেই এখন মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে

 

, এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা শুধু পরিবেশেই নয়, মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গেও প্রবেশ করছে, যা ভবিষ্যতের জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মানবদেহের মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র, রক্ত, প্লাসেন্টা, প্রজনন অঙ্গ, মাতৃদুগ্ধ, প্রস্রাব এবং নবজাতকের প্রথম মলেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়ে

ছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ৫ মিলিমিটারের কম আকারের প্লাস্টিক কণাকেই মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয় এবং প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে বিপুল পরিমাণ এই কণা পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

স্ট্যানফোর্ড মেডিসিনের শিশু সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ডিজায়ারি লাবিউড জানান, প্লাস্টিক কখনো পুরোপুরি নষ্ট হয় না। সময়ের সঙ্গে এটি আরও ক্ষুদ্র কণায় বিভক্ত হয়ে পরিবেশ ও খাদ্যশৃঙ্খলে মিশে যায়। ফলে মানুষের পক্ষে এর সংস্পর্শ পুরোপুরি এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্লাস্টিকের ব্যবহার আধুনিক জীবনে অনেক সুবিধা এনে দিলেও এর দীর্ঘস্থায়ী বর্জ্য এখন বড় পরিবেশগত সংকটে পরিণত হয়েছে। সমুদ্রের গভীরতা থেকে শুরু করে পর্বতের চূড়া পর্যন্ত এবং প্রায় ১,৩০০ প্রজাতির প্রাণীর শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ইতোমধ্যে শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে গবেষণা এখনও চলমান। তবে বিভিন্ন গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের সঙ্গে শরীরে প্রদাহ, কোষের ক্ষতি, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়া এবং বিপাকীয় কার্যক্রমে পরিবর্তনের সম্ভাব্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রজনন সমস্যা, শ্বাসতন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা এবং কোলন ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধির আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেছেন গবেষকরা।

২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, যাদের ধমনিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ছিল, তাদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং মৃত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

শিশুরা এ ঝুঁকিতে আরও বেশি সংবেদনশীল বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ তাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ তখনও বিকাশমান থাকে। সাম্প্রতিক গবেষণায় শিশুদের টনসিলেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এটি হরমোনজনিত বা থাইরয়েড সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা নিয়ে গবেষণা চলছে।

যদিও দীর্ঘমেয়াদে মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। তাই বিশেষজ্ঞরা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন।

মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শ কমাতে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার সীমিত করা, প্লাস্টিকের পরিবর্তে কাচ বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র ব্যবহার, প্লাস্টিকের বোতলে দীর্ঘ সময় পানি সংরক্ষণ না করা এবং অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিকজাত পণ্য এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদের কার্যকর উদ্যোগই ভবিষ্যতে মাইক্রোপ্লাস্টিকজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ