নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নদীপাড়েই ‘ইলিশের হাট’

মাদারীপুর প্রতিনিধি

মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা নদীতে ইলিশ শিকার ও বেচাকেনা চলছে। নদীপাড়ে অস্থায়ী হাট বসিয়ে ডিমওয়ালা ইলিশ বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার বন্দরখোলা, মাদবরেরচর, চরজানাজাত ও কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নসংলগ্ন পদ্মার তীরে মাছ ধরা ও বিক্রির এমন চিত্র দেখা যায়।

জেলেদের ট্রলার থেকে মাছ নামানোর পর তা কিনে নিচ্ছেন ফড়িয়ারা। পরে নদীপাড়ের অস্থায়ী হাটে বিক্রি করছেন। এসব হাটে এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি এক হাজার ৬০০ থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের ইলিশের দাম রাখা হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা।

ইলিশের প্রজনন রক্ষায় ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও কেনাবেচায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম চরাঞ্চল ও নজরদারির ঘাটতির সুযোগে এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করছেন কিছু জেলে ও ব্যবসায়ী।

ইলিশ কিনতে আসা প্রবাসী সজিব খালাসি জানান, অস্থায়ী বাজারে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের ইলিশ বিক্রি হতে দেখেছেন তিনি। প্রশাসনের অভিযান চলার মধ্যেও এসব হাট বসছে বলে জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে বলেন, ঋণ করে জাল কেনা এবং সংসারের ব্যয় মেটানোর চাপে তারা মাছ ধরছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে অভিযান ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অস্থায়ী হাট বন্ধ এবং অসচ্ছল জেলেদের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তারা।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার জানান, জনবল সংকটের কারণে পুরো এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি করা কঠিন। তবে তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালানো হচ্ছে।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান চলছে। নদীপাড়ের অবৈধ অস্থায়ী হাট বন্ধে শিগগিরই বড় পরিসরে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর