গেম খেলা কিংবা ভিডিও দেখায় অনেক শিশুর দিনের বড় একটি সময় কেটে যাচ্ছে। এতে খেলাধুলা, পড়াশোনা ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ কমে যেতে পারে। মোবাইল ব্যবহার নিয়ে বকাঝকা বা হঠাৎ নিষেধাজ্ঞার বদলে পরিবারের সবার জন্য কিছু নিয়ম তৈরি করা যেতে পারে।
১. বড়রা আগে উদাহরণ তৈরি করুন
শিশুকে ফোন সরিয়ে রাখতে বলার পাশাপাশি নিজের ব্যবহারেও পরিবর্তন আনুন। খাওয়ার সময়, পারিবারিক আড্ডায় কিংবা শিশুর সঙ্গে খেলতে বসে ফোন দূরে রাখুন। জরুরি কাজে ফোন ব্যবহার করতে হলে তাকে সংক্ষেপে বুঝিয়ে বলুন।
২. ফোন ব্যবহারের সময় ও জায়গা ঠিক করুন
শিশুর বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিনোদনের জন্য ফোন ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করুন। কখন ব্যবহার করবে এবং কখন বন্ধ করবে, তা আগেই আলোচনা করুন। খাবার টেবিল ও ঘুমানোর আগের সময় পর্দামুক্ত রাখুন। শোবার জায়গার বাইরে ডিভাইস রাখার অভ্যাসও গড়ে তুলতে পারেন।
৩. পছন্দের কাজে সুযোগ দিন
আঁকাআঁকি, গান, নাচ, পাজল কিংবা হাতের কাজে শিশুর আগ্রহ থাকলে প্রয়োজনীয় উপকরণ ও সময় দিন। কোন কাজটি করবে, তা বেছে নেওয়ার সুযোগ তাকেও দিন। ফোন সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আনন্দদায়ক বিকল্প রাখাও জরুরি।
৪. প্রতিদিন পারিবারিক সময় রাখুন
রাতের খাবারের আগে বা পরে গল্প, বোর্ড গেম কিংবা আড্ডার আয়োজন করতে পারেন। শিশুর দিনের অভিজ্ঞতা শুনুন এবং বড়রাও অংশ নিন। এই সময়টায় পরিবারের সবাই ফোন দূরে রাখুন।
৫. বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলুন
বয়স ও আগ্রহ অনুযায়ী ছবির বই, ছড়া কিংবা গল্পের বই দিন। শুরুতে অল্প সময় একসঙ্গে পড়ুন। পরে গল্পের চরিত্র বা মজার ঘটনা নিয়ে কথা বলুন। বই পড়াকে বাধ্যতামূলক কাজের বদলে আনন্দের অভিজ্ঞতা করে তুলুন।
৬. বাইরে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ান
নিরাপদ জায়গায় দৌড়ঝাঁপ, সাইকেল চালানো কিংবা ফুটবল, ক্রিকেট ও ব্যাডমিন্টন খেলার সুযোগ দিন। সম্ভব হলে শিশুর সঙ্গে হাঁটতে বা পার্কে যান। নিয়মিত খেলাধুলাকে দৈনন্দিন রুটিনে জায়গা দিন।
অভ্যাস বদলাতে সময় লাগে। তাই শিশুকে দোষারোপ না করে ছোট ছোট পরিবর্তন দিয়ে শুরু করুন এবং পরিবারের সবাই নিয়মগুলো মেনে চলুন।









