ডেস্ক নিউজ| ঢাকা, ১৬ই জুন, ২০২৬:
জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষের চেয়ার নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক। তাঁর অভিযোগ, চেয়ারগুলোর পেছনের পিন খোলা থাকায় সংসদ সদস্যদের হাত কেটে যাচ্ছে। একই সঙ্গে চেয়ারগুলোর নকশা ও অতিরিক্ত ওজন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বুধবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়নাল আবদিন ফারুক বলেন, সংসদ কক্ষে থাকা ৩০০টিরও বেশি চেয়ার বর্তমানে সদস্যদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা অনেকেই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছি। কারও কোমরে সমস্যা, কারও হাতে বা পিঠে ব্যথা রয়েছে। অথচ চেয়ারগুলোর পেছনে প্রায় তিন ইঞ্চি ফাঁকা জায়গা থাকায় স্বাভাবিকভাবে বসাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এমনকি অনেক তরুণ সদস্যও এসব চেয়ারে আরাম করে বসতে পারেন না।”
চেয়ারগুলোর অতিরিক্ত ওজনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ১৯৯১ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য হওয়ার সময়ও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তাঁর দাবি, অতীতে চেয়ারগুলো এত ভারী করে তৈরি করা হয়েছিল যেন কেউ সেগুলো তুলে নিক্ষেপ করতে না পারে। সেই ধারাবাহিকতায় এখনও চেয়ারগুলো অস্বাভাবিক ভারী রয়ে গেছে।
জয়নাল আবদিন ফারুক আরও বলেন, “আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই চেয়ারের পেছনের খোলা পিনে হাত কেটে ফেলেছেন। শুধু তিনি নন, প্রায় প্রত্যেক সংসদ সদস্যই এ সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।”
চেয়ার ইস্যুর পাশাপাশি সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রচলিত রীতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জয়নাল আবদিন ফারুক।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংসদ পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। অনেক দেশেই এ ধরনের রীতি দেখা যায়। তবে এটি ইসলামী মূল্যবোধ বা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, সে বিষয়ে স্পিকারের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদে মাথা নত করে প্রবেশের রীতির বিষয়ে তিনি পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত ও মতামত জানাবেন।
চেয়ারের নিরাপত্তা ও সংসদীয় রীতিনীতি, এই দুই বিষয়েই জয়নাল আবদিন ফারুকের বক্তব্য সংসদে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের প্রশ্নে চেয়ারগুলোর অবস্থা নিয়ে এখন নজর দেওয়ার দাবি উঠেছে।








