কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির দুই মালিক নিয়াজ মোর্শেদ ও তানভীরের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় রিসোর্টের রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হতাহতের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে উখিয়া থানায় নেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান। তিনি জানান, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন অ্যান্ড ক্রাইমস) অহিদুর রহমান জানান, উখিয়া থানা পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রিসোর্ট পরিচালনায় মালিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে যাঁদের গাফিলতি পাওয়া যাবে, তাঁদের মামলায় আসামি করা হবে। মালিকদের অবস্থান নিশ্চিত করতেও পুলিশ কাজ করছে।
রিসোর্টটির মালিক নিয়াজ মোর্শেদ চট্টগ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তানভীরও প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম স্বত্বাধিকারী। অগ্নিকাণ্ডের পর তাঁদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে তাঁরা কোথায় আছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাটোয়ারটেক এলাকায় কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত ছয়জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মরদেহগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে নয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁদের ছয়জন একই পরিবারের বলে জানা গেছে। তাঁরা হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ।
নিহত অন্য তিনজন হলেন নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯), জিহাদ হাওলাদার ও তারিকুল ইসলাম। নাসরিন ঢাকার আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। জিহাদ ও তারিকুলের বিস্তারিত পরিচয় এখনো জানা যায়নি। অপর একজনের পরিচয় শনাক্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।









