নিত্যপণ্যের দাম বাড়তি

অস্বস্তিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা

ইকরামুল হক ইহান

দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের নিত্যপণ্যের বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। চাল, ডাল, তেল, সবজি—প্রায় প্রতিটি পণ্যের দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজারে গিয়ে অনেক ক্রেতাই হতাশ হয়ে পড়ছেন। বেশিরভাগ সবজির দামই এখন ১০০ টাকার ওপরে। কেউ কেউ বলছেন, বাজারে এসে মনে হচ্ছে অন্য কোনো দেশে আছি।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুন, পটল, কাঁকরোল, ধুন্দল ও করলা দাম বেশি বেড়েছে। পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া, লাউ, ঢ্যাঁড়স, কাঁচা কলা ও পুঁইশাকের দামও বেড়েছে। বাজারে কাঁকরোল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৭০ টাকায়, বেগুন প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ১১০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া টমেটো প্রতি কেজি ৬০-৭০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা, কচুর লতি প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানির দাম বাড়ায় পরিবহণ খরচ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।

খিলক্ষেতের খুচরা ব্যবসায়ী ফিরোজ আহম্মদ বলেন, জ্বালানি তেলের সঙ্গে ট্রাকের ট্রিপ খরচও বেড়েছে। দূর পাল্লার প্রতি ট্রাকেই নেওয়া হচ্ছে ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা বেশি। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষ এই ভাড়া ছাড়িয়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

তিনি জানান, কাঁচা বাজারের পণ্যে দাম বৃদ্ধি কিংবা কমা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্ভর করে ফলন ও আমদানির ওপর। তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সংকটের কারণে পরিবহণ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব সবজির দামেও পড়েছে। যেহেতু সবজিগুলো অনেক দূর থেকে ঢাকায় আসে। সেইসঙ্গে তীব্র গরমে সবজি তাড়াতাড়ি নষ্ট হওয়ারও শঙ্কা থাকে।

সাম্প্রতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজির দাম ১০০ টাকার ওপরে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে সয়াবিন তেল, ডিম, মাংসসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যের দামও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। যদিও কিছু পণ্যের দাম সামান্য কমার খবর পাওয়া যাচ্ছে, তবুও সামগ্রিকভাবে বাজারে স্বস্তি নেই। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য খাদ্যব্যয় ক্রমেই বড় চাপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এদিকে বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। ক্রেতারা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়, বাজারদর বৃদ্ধি মানেই সীমিত আয়ের মানুষের ওপর চাপ।

সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায়। পোল্ট্রি মুরগিও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমে আজ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। দেশি মুরগির দামও ৬০ থেকে ৭০ টাকা কমে আজ বিক্রি হচ্ছে ৭২০ টাকা দরে। তবে লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে আজ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা। এদিকে গরুর মাংস আজও বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে।

এদিন মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি লক্ষ্য করা যায়। ২২০ টাকার নিচে বাজারে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। পাঙ্গাশ মাছ ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে তা বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকায়। ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৭০ টাকা, যা গত তিন দিন আগেও বিক্রি হতো ৩০০ টাকা দরে। আর দুই কেজির চেয়ে বেশি ওজনের রুই মাছ ৩০ থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকায়। এ ছাড়া তেলাপিয়া, পাবদা, শোল, টেংরাসহ সব মাছই কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে আজ বিক্রি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অনেক পণ্যের দাম কমলেও দেশের বাজারে তার প্রভাব পড়ছে না। এর পেছনে ডলারের উচ্চ মূল্য, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে দায়ী করা হচ্ছে। এছাড়া সময়মতো আমদানি না হওয়া, সরবরাহে ঘাটতি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবও দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ